ইটের জবাবে আইসিসিক পাটকেল ছুঁড়লো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড

104

ভারতের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গেলে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে হয় আইসিসিকে। ভারত সরকারের কর রেয়াত না দেয়ার কারণে এই বিশাল লসের মুখে পড়তে হয় ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটিকে। ২০২১ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, বিসিসিআই যদি কর রেয়াতের বিষয়টা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হতে পারে।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় এই কারণে আইসিসিকে লস গুনতে হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা)। এ কারণে এবার আইসিসি ভারতকে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে রাখলো। বলে রাখলো, ভারত সরকারের কাছ থেকে কর রেয়াত নিতে হবে।

এই হুমকির পর আইসিসিকে কড়া জবাব দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইও। বলতে গেলে, আইসিসিকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ছাড়লো বিসিসিআই। শুরুতে তারা আশা প্রকাশ করে আইসিসিকে বলেছে, ‘আমরা আশা করবো, আইসিসি এই সিদ্ধান্ত নেবে না। তারা ভারতকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে বহাল রাখবে।’

বিসিসিআইর বক্তব্য হচ্ছে, ‘ভারত আইসিসির প্রমাণিত একটি সদস্য দেশ। সুতরাং, তারা কোনোভাবেই ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত হয়তো নেবে না।’

একই সঙ্গে আইসিসিকে হুমকিও দিয়ে রাখলো বিসিসিআই। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে, আইসিসি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্বাস করে, ভিন্ন কোনো দেশে বিশ্বকাপ সরিয়ে নিয়ে আইসিসি হারাকিরি (জাপানে আত্মহত্যাকে হারাকিরি বলে) গ্রহণ করে নেবে না।’

বিসিসিআই মনে করে, এই যে হুমকি এসেছে আইসিসির পক্ষ থেকে, এটা স্রেফ আইসিসির নয়। এটা আইসিসির ভেতরে থাকা কিছু অতি উৎসাহী সদস্য দেশের ষড়যন্ত্র। বিসিসিআইর ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আইসিসির (হুমকি) নয়। তবে এটা এসেছে সময়ে সময়ে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু উৎসাহী সদস্য দেশের ষড়যন্ত্রের কারণে। অধিকাংশ আইসিসি ডিরেক্টরই প্রমাণিত। আশা করি, তারা সবাই মিলে এ ধরনের কোনো আত্মহত্যার শামিল কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অনুমোদন দেবে না। যদি তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণই করে, তাহলে আমরা হেসে হেসেই এটাকে উড়িয়ে দেবো এবং আইসিসিকে কঠিন অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

উল্টো আইসিসিকে বিসিসিআইর ওই কর্মকর্তা পরামর্শ দেন, ‘যারা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা করছে, আইসিসির উচিৎ এখনই তাদেরকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়া। অথচ, আইসিসির রাজস্ব আহরণে তাদের ভূমিকাই খুব কম। সে ধরনের কোনো ব্যক্তিকেও যদি কেউ সমর্থণ করে, সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিসিসিআইর ওই কর্মকর্তা এর আগে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারির সঙ্গে লড়াই করছে, তখন আইসিসি কিভাবে এ ধরনের একটি মেইল পাঠালো? আমি কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারছি না। বরং, এটা হচ্ছে আইসিসির নেতৃত্বের চূড়ান্ত ব্যর্থতার ফল। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আইসিসিতে পরিবর্তন প্রয়োজন।’