লকডাউন ভাঙায় আর্মেনিয়ার তিন বাহিনীর প্রধান বরখাস্ত

115

লকডাউন ভাঙার দায়ে দেশের সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানকে রাতারাতি সরিয়ে দিলেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। লকডাউন নিয়ে এমন কড়া অবস্থান নিতে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখা যায়নি।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘তিনি বাহিনীর শীর্ষ কর্তার কাছ থেকে এই আচরণ কাঙ্ক্ষিত ছিল না। করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে এরা তিন জনেই দেশের জন্য বাজে উদাহরণ তৈরি করেছেন।’ আর্মেনিয়ার দৈনিকের বরাত দিয়ে এখবর দিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

তিন বাহিনীর তিন প্রধান কী ভাবে লকডাউন ভেঙেছেন বা তাদের দোষটা কী ছিল– তা কিন্তু প্রাকাশ্যে ভেঙে বলেননি নিকোল পাশিনিয়ান।

আর্মেনিয়ার এক প্রথমসারির দৈনিক কাগজের খবর অনুযায়ী, এই করোনা সংকটের মধ্যে সামরিক বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লকডাউন অগ্রাহ্য করে, তার ছেলের বিয়েতে বড় করে পার্টি দেন। দেশে যে সামাজিক সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ রয়েছে, সামরিক বাহিনীর প্রধান তা মাথায় রাখেননি।

ফলাও করে এই বিয়ের খবর বেরোনোর পরদিনই নিকোল পাশিনিয়ান তার দেশের সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে বরখাস্তের কথা ঘোষণা করেন। সেনাপ্রধানের ছেলের বিয়েত পুলিশপ্রধান আরমান সার্গসিয়ান এবং গোয়েন্দা প্রধান এডওয়ার্ড মারতিরোসিয়ান হাজির ছিলেন কি না সেই উল্লেখ নেই ওই রিপোর্টে।

ফলে, বাকি দু-জনের উপর শাস্তির খাড়া কেন নেমে এল, তা স্পষ্ট নয়। সেনাপ্রধানের ছেলের বিয়েই কারণ নাকি অন্য কোনোভাবে লকডাউন ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর রোষে পড়েছেন, তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

ফেসবুকে তিন প্রধানকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, দেশের শীর্ষ কর্তারাই যদি নিয়ম ভাঙেন, শীর্ষপদে থাকার সুযোগে আইনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, সেক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষ কী শিখবে? পুলিশ প্রধান সার্গসিয়ান বা গোয়েন্দা প্রধান মারতিরোসিয়ান– কেউই শাস্তি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

আর্মেনিয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায়, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত গোটা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। দেশটিতে সমাবেশ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেসে মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাশনিয়ান সপরিবার করোনায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর্মেনিয়ায় এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬৭৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২১৭ জনের।