বিকেল হলেই রং-বেরঙের ঘুড়ি উড়তে দেখা যাচ্ছে ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের আকাশে।

132

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ বিকেল হলেই রংবেরঙের ঘুড়ি উরতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুরের সদর ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের আকাশে। কেউ ঘুড়ি উড়াচ্ছেন বাড়ির ছাদে। কেউ বা আবার খোলা মাঠ বা নদীর ধারে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে একরকম বন্দি জীবন কাটাচ্ছে গাজীপুর সদর উপজেলা ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের লোকজন। ফলে শিশু-কিশোররা পড়েছে চরম অসুবিধায়।
একদিকে স্কুল-কলেজ বন্ধ, অন্যদিকে খেলাধুলারও উপায় নেই। সারাদিন টিভি, কম্পিউটার, ফেসবুক চালিয়ে যেন হাপিয়ে উঠেছে তারা। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে এখন বাড়ির ছাদে ও খোলা জায়গায় ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ লাভের চেষ্টা করছেন।

ঘুড়িপ্রেমীরা বলেন, ‘আমাদের দেশে পঙ্খীরাজ, বিমান ঘুড়ি,ডাক ঘুড়ি, চিল ঘুড়ি,তেলেংগা,বিভিন্ন নামের ঘুড়ি আছে। তবে ঘুড়ির চেয়েও বেশি দৃষ্টি কাড়ে এর লেজ। ঘুড়ি অনেক আকৃতির ও রং-বেরঙের হয়ে থাকে। এর সঙ্গে ঘুড়ি উড়ানোর লাটাইয়ের নামও বেশ আকর্ষণীয়। যেমন- বাটিওয়ালা, মখুবান্ধা, মুখছাড়া ইত্যাদি।’মুদি ব্যবসায়ি মোঃ শাজাহন মিয়া ও আজাহার নামের ২ জন ঘুড়িপ্রেমী জানান, দীর্ঘদিন ঘরের মধ্যে থেকে আর ভালো লাগছে না। তাই বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে গ্রামের মাঠে ঘুড়ি উড়ান। এতে একদিকে বাচ্চারা যেমন গ্রামবাংলার হারাতে বসা ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছে, অন্যদিকে তাদের চিত্ত-বিনোদনেরও সুযোগ মিলছে।

তারা আরও জানান, লকডাউনের কারণে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তাই কাগজ ও পলিথিন কেটে ঘুড়ি তৈরি করাও শেখাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া কাঁথা সেলাইয়ের সুতা, কট সুতা, কেরালিন সুতা ইত্যাদি সুতা দিয়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন তারা। এতে বাচ্চারা খুব মজা পাচ্ছে। গাজীপুর ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের শিরিরচালা এলাকায় অনার্স পড়ুয়া মোঃ কাইয়ুম,আলামিন ও মাষ্টার্স পরোয়া মাহমুদুল হাসান সেলিম তারা বলেন ‘ঘরে বসে বসে টিভি-সিনেমা দেখতে এখন আর ভালো লাগে না। তাই মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলেই ঘুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি আমরা।’দিন হতে রাত অব্দি ঘুড়ি উরিয়ে সময় কাটে আমাদের।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষের মনে চিত্ত-বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।